Wednesday, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২৪

৫টি উপায়ে মন থেকে দূর করুন সকল বিষণ্নতা

ইউরোপ বাংলা: ডিপ্রেশন বা বিষন্নতা খুব পরিচিত একটি শব্দ। কার জীবনে হানা দেয় নি এই বিষণ্ণতা? রেজাল্ট খারাপ হওয়া,পারিবারিক সমস্যা, স্কুল/কলেজ/ভার্সিটি তে বন্ধুদের সাথে ঝগড়া, মৃত্যুশোক, একাকিত্ব ইত্যাদি আরো হাজারটা কারণে বিষণ্ণতা গুটিগুটি পায়ে প্রবেশ করে আমাদের জীবনে। আর অল্প সময়েই নিজের পাকা অবস্থানও বানিয়ে নিতে পারে এই মানসিক ব্যাধি।

অন্যদিকে, হতাশা? মানুষ কিছু পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে গিয়ে যখন পায় না বা পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে করতে পারে না, তখন মানুষের যে মানসিক অবস্থা তৈরি হয় তা-ই হলো হতাশা । হতাশাগ্রস্ত মানুষের রাগ, ঈর্ষা, লোভ থাকতেও পারে। কিন্তু বিষণ্নতাগ্রস্ত মানুষের এসব কিছুই নেই। হতাশাগ্রস্ত মানুষ কোনো কিছু হারালে দুঃখ পান। কিন্তু বিষণ্নতাগ্রস্ত মানুষের যেন কিছুই যায় আসে না। সুতরাং হতাশা ও বিষণ্নতা দুটি সম্পূর্ণই পৃথক জিনিস। একজন হতাশাগ্রস্ত মানুষ ক্রমান্বয়ে বিষণ্নতাগ্রস্ত হতে পারেন।

আপনার মনের আকাশে বিষন্নতা একবার দেখা দিলে জীবনে ছেয়ে যাবে কালো মেঘের আঁধার। এ থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে জানতে হবে বিষণ্নতা দূর করার উপায়। শুধু জানলেই যে শেষ হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়, উপায়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে আপনাকেই। মনে রাখবেন, যদি ব্যর্থ হন তাহলে আপনাকে পুরোপুরি গ্রাস করবে বিষণ্নতা। প্রথমে আপনার মনকে নিয়ন্ত্রণে নিন। এরপর ধীরে ধীরে ইতিবাচক চিন্তার দিকে প্রবাহিত করুন। মাথায় জগতের সৌন্দর্যময় চিত্রগুলো নিয়ে আসুন। এরপর একাগ্রতার সাথে বিষণ্নতার উপাদানগুলোকে ঝেড়ে ফেলুন। জেনে নিন, আপনার মনের আকাশ থেকে বিষণ্নতার মেঘগুলোকে কিভাবে সরিয়ে দেবেন?

১. মন ফ্রেশ রাখুন: আপনি বিষণ্নতায় ভুগছেন কিন্তু ভবিষ্যতে এমন ডজন ডজন ঘটনা ঘটতে পারে যেটা সম্পর্কে আপনার কোন অভিজ্ঞতাই নেই আর তাই বিষণ্নতা থেকে বের হয়ে মনকে রাখতে হবে উৎফুল্ল। নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হোন, তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করুন, সময় ব্যয় করুন। এমন হাতে পারে এদের সাথে মিশে এতটাই আনন্দিত হবেন যে আপনি কল্পনাও করতে পারেন নি। অতীতে যাদের দ্বারা আপনি দুঃখ পেয়েছেন দেখবেন এই নতুন বন্ধুরাই সেসব দুঃখ ভুলিয়ে দেবে। আপনার দিনগুলোকে করবে অনেক আনন্দময়। এমনও হতে পারে এই সময়ের চেয়ে সেই সময় হবে হাজার গুণ ভালো। অতএব আনন্দময় মুহুর্তগুলোর কাছে কৃতজ্ঞ হোন।

২. জোরে জোরে হাসুন: মানুষের জীবনে হাসি হলো বিষণ্নতা তাড়ানোর এক মহৌষধ। ধরুন আপনি বড় ধরনের কোন বিষাদে ভুগছেন। তার মানে এই নয় যে আপনি হাসবেন না, আড্ডা দেবেন না বন্ধুদের সঙ্গে। আড্ডা দিন, আনন্দ করুন। আড্ডার মাঝেও হাসি খুঁজে আনার চেষ্টা করুন। চলে যান অনলাইনে খুঁজে বের করুন আপনার আনন্দের খোরাকগুলো। ইউটিউব থেকে খুঁজে বের করে দেখতে পারেন আপনার প্রিয় ভিডিওগুলি। অথবা দেখতে শুরু করুন শৈশবের মজার মজার কমেডিয়ান পুরনো কার্টুন সিরিজগুলো। আপনার মুল্যবান সময় বিফলে যাবে না বরঞ্চ অজান্তেই কেটে যাবে মনে জমিয়ে রাখা যতো বিষন্নতা, ভালো হয়ে যাবে আপনার মন।

৩. নিত্য নতুন অভিজ্ঞতা: আপনার জীবনে এমন অনেক কিছুই আছে যা আপনি বেশ উপভোগ করেন ৷ হতে পারে সেটি স্কাই ডাইভিং অথবা আপনার প্রিয় কোন খেলা, ভালো একটি সিনেমা। এতে করে আপনার মন পাবে ইচ্ছার অগ্রাধিকার। আর আপনি যে বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দিন না কেন তা নিয়ে আপনি থাকতে পারেন উৎফুল্ল। বিশ্বাস করুন একদিন না একদিন আপনার স্বপ্নগুলো হবে সত্যি। আপনার বিশ্বাস থেকেই দেখবেন আপনার দেখা দিবাস্বপ্নগুলো, হবে সত্যিকারের অভিজ্ঞতার মতই সুখকর।

৪. গান শুনুন: একটা ঘটনার কারণে যেমন আপনি বিষাদগ্রস্ত হতে পারেন তেমনি একটি মাত্র গানও আপনার বিষাদকে তাড়িয়ে দিতে পারে জীবন থেকে অনেক দূরে। বিষন্ন মুহুর্তগুলোতে শুনুন প্রিয় গায়কের গান। ঘুম থেকে উঠেই হাল্কা আওয়াজে ছেড়ে দিন প্রিয় গানটির সিডি। এক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে গানের সুর যেন হয় মাধুর্যময় এবং সময়োপযোগী। গানের কথা যেন ছুঁয়ে যায় আপনার মনের ভাঁজগুলোকে। গান শুনতে শুনতে খেয়াল করুন, মনে হবে এক অপার্থিব জগতে চলে গেছেন। গানের মধ্যে এতটাই ডুবে যাবেন যে মনে হবে ‘কে বলেছে এই পৃথিবীতে আমি একা?’ গানের সাথে সাথে মনের মেঘ কেটে যেতে থাকবে, ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসবে আপনার মন।

৫. প্রকৃতিকে ভালোবাসা: আপনি যখনই চান তখনই বাইরের জগতটাতে পা রাখতে পারেন এবং অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। প্রকৃতি আমাদেরই নিজস্ব সম্পদ। আমরা যখন চাই তখনই তা উপভোগ করতে পারি ৷ ঠিক মানবজাতির মতই, প্রকৃতি যতটা উপভোগ্য ততটাই ধংসাত্মক। আমাদের সবারই প্রকৃতির সাথে এমন একটি সংযোগ আছে যা আমাদের মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। এমন যদি হয় যে,আপনি আপনার আশেপাশে মানুষগুলোর প্রতি হতাশ তবে তাদেরকে কয়েকদিনের জন্য দূরে সরিয়ে প্রকৃতিকে কাছে টেনে নিতেই পারেন। যখন আপনার মন খারাপ থাকে তখন চেষ্টা করুন ইতিবাচক ব্যপার চিন্তা করতে। নেতিবাচক ব্যপার নিয়ে আটকে পড়ে থাকা আসলে ভয়াবহ।

আরো পড়ুন: বিশ্বে করোনা থেকে সুস্থ ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ

Related Posts

Next Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

I agree to the Terms & Conditions and Privacy Policy.

ফেসবুকে ইউরোপ বাংলা