Wednesday, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২৪

খাবারের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ তোয়াক্কা করার কতোটা মূল্য রাখে?

খাবারের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ তোয়াক্কা করার কতোটা মূল্য রাখে?

আজকের দিনে প্রায় প্রত্যেকটা খাবারের আইটেম প্যাকেট বন্দী হয়েই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। আর প্রায় প্রত্যেকটা খাবারের গায়ে তার মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা থাকে। অনেকেই কিন্তু এই খাবারের গায়ের তারিখ মারাত্মকভাবে অনুসরণ করে খাবার কেনেন। কিন্তু খাবারের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ তোয়াক্কা করার কতোটা মূল্য রাখে? মেয়াদ শেষ হলেই কি সাথে সাথে খাবারটি ফেলে দিতে হবে? চলুন, হালকা করে আলোচনা করা যাক…

খাবারের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ তোয়াক্কা করার কতোটা মূল্য রাখে?

অনেক খাবারের আইটেমে বিক্রির সময় দেওয়া থাকে, এর মানে বুঝানো হয় ঐ আইটেমটি দোকানে কতো সময় পর্যন্ত বিক্রির জন্য রাখা যেতে পারে। কোন আইটেমের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া মাত্রই সেটা খাবার জন্য ক্ষতিকর বা বিষাক্ত হয়ে যায় না। বরং U.S. Food and Drug Administration এর অনুসারে, খাবারের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ থেকে সৃষ্ট কনফিউশনের ফলে অনেক খাবার অঝথা নষ্ট হয় (ফেলে দেওয়া হয়)।

অনেক খাবারের আইটেমের উপরে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বলতে ঐ প্রোডাক্টের মেয়াদ বুঝানো হয়। বিশেষ করে বেকারি আইটেম গুলোর ক্ষেত্রে যদি মেয়াদের মধ্যেই খাবারটি খেয়ে শেষ করেন সেক্ষেত্রে বেস্ট হয়। কোন কেক বা পাউরুটির গায়ের মেয়াদ থেকে বুঝানো হয় ঐ আইটেমটি সেই সময় পর্যন্ত নিজের ফ্রেশনেস ধরে রাখতে সক্ষম। এর মানে কিন্তু এটা নয় গতকাল মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া পাউরুটি আজকে আর খাওয়াই যাবে না। তবে হ্যাঁ, হতে পারে মেয়াদ শেষ হওয়ার কিছুদিন পর থেকে প্রোডাক্টটির গুনগত মান কমতে শুরু করতে পারে এবং কিছুটা ফ্রেসনেস হারাতে পারে।

কোন দুধের প্যাকেটের গায়ের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পার হওয়ার পরে ঐ দুধ নিরাপদে খাওয়া যেতে পারে যদি সঠিক ভাবে ফ্রিজে রাখা হয় এবং স্টোর করা হয়। কোন খাবার আইটেমের ফ্রেশ থাকার চান্স অনেক অংশেই বেড়ে যায় আইটেমটির সঠিক স্টোর করার পদ্ধতির উপরে।

তো কখন আর খাওয়া যাবে না?

বেশিরভাগ খাবার আইটেম মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে ও কয়েকদিন এমনকি খাবার অনুসারে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ও ভালো থাকে। বেকারি আইটেম গুলো কয়েকদিনের মধ্যেই খেয়ে ফেলা উচিৎ বেকারি আইটেম গুলো দ্রুতই ছত্রাকে আক্রাত হতে পারে। অপরদিকে মাছ মাংসকে সঠিকভাবে ফ্রিজে রাখলে অনেকদিন রাখা যেতে পারে। ডিম মাস খানেক ধরে রেখে দিলেও সমস্যা হবার কথা নয়।

প্রসঙ্গ হচ্ছে, কোন আইটেম যদি দুরগন্ধ ছড়াতে শুরু করে, খাবারের রং পরিবর্তন হয়ে যায়, কিংবা খাবারের গায়ে ছত্রাক গজাতে শুরু করে জাস্ট এর মানে ঐ খাবারটি এবার সত্যি সত্যিই মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ অতিক্রম করেছে। আর এই পর্যায়ে জাস্ট খাবারটি ফেলে দিয়ে রক্ষা পাওয়াই বেস্ট হবে। আর হ্যাঁ, গায়ে লেখা থাকা মেয়াদ পার হলেই সাথে সাথে খাবারটি ছুড়ে ফেলতে হবে, এমনটা ঠিক নয়!

ইউরোপ বাংলা

ইউরোপ বাংলা

একজন ফ্রিল্যান্স রাইটার, ব্লগার, এডুকেশনাল কনসালট্যান্ট, ক্যারিয়ার কাউন্সিলর, উদ্যোক্তা।

Related Posts

Next Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

I agree to the Terms & Conditions and Privacy Policy.

ফেসবুকে ইউরোপ বাংলা