Wednesday, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২৪

ইউরোপীয় ইউনিয়ন দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীদের বড় শ্রমবাজার

ডেস্ক রিপোর্টঃইউরোপিয়ান ইউনিয়ন একতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব বোধ এবং সহনশীলতাসহ নানান বিশেষণে বিশেষায়িত একটি আঞ্চলিক জোট, বলতে গেলে ২৭ টি দেশ মিলিয়ে একটি রাজ্য কেননা নির্ধারিত সীমানা থাকলেও নেই কোন সীমান্ত রক্ষী। প্রতিটি দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পার্থক্য থাকলেও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষা এবং সকল প্রকার উন্নয়নে তাদের মধ্যে রয়েছে একাত্মতা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ টি দেশের মধ্যে উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন নাগরিকদের মধ্যে গড়ে তুলনামূলকভাবে ৪৪ শতাংশ নন -ইইউ(ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর) নাগরিক, ৩৩ শতাংশ ইইউ নাগরিক এবং ২১ শতাংশ স্থানীয় নাগরিক। তবে নন-ইইউ নাগরিকদের মধ্যে মহিলা গড়ে ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পুরুষ ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ।

সর্বোচ্চ সংখ্যক নন-ইইউ উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন নাগরিকদের রয়েছে যে সকল দেশগুলোতে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যথাক্রমে গ্রীসে ৭৮ শতাংশ, ইতালি ৬৮ শতাংশ, স্পেন ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে স্পেন , ইতালি, সাইপ্রাস এবং গ্রিসে ৫০ শতাংশ উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন ইইউ নাগরিক রয়েছেন।

অপরদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্য থেকে তিনটি দেশের নাগরিকগণ সবচেয়ে বেশি উচ্চতা সম্পন্ন স্পেন ৩৫ শতাংশ গ্রিস ৩২ শতাংশ এবং সাইপ্রাস ৩১ শতাংশ। তবে লুক্সেমবুর্গে একে তিন ধরনের উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন নাগরিকদের অবস্থান প্রায় সম পর্যায়ের যদিও এটি একটি ক্ষুদ্র দেশ।

উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তি (কর্মী )বলতে আন্তর্জাতিক একটি মানদণ্ড রয়েছে যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ক্লাসিফিকেশন অফ এডুকেশন (আই এস সি ই ডি) এই মানদণ্ডে যারা কমপক্ষে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর কর্ম সংস্থান সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিষয়ে দুই বছরের কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন

খুব সুন্দর ভাবে পরিলক্ষিত যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তাদের কর্মসংস্থানে তৃতীয় দেশের দক্ষতা সম্পন্ন নাগরিকদের প্রাধান্যতা দিচ্ছেন। ফলে নন-ইইউ দেশের দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি বড় শ্রমবাজার যার মাধ্যমে নন-ইইউ দেশগুলো প্রচুর পরিমাণ মুদ্রা অর্জন করছেন। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ইউরোপের এই শ্রমবাজারের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ প্রতিবছর ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছেন তবে এদের বেশিরভাগই অদক্ষ জনবল। যদি বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাহলে বাংলাদেশের পক্ষেও এই শ্রমবাজারের অংশ হওয়ার সুযোগ হয়ে উঠবে এবং আরো বেশি রেমিট্যান্স অর্জন করা সম্ভব হবে যা বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ফরিদ আহমেদ পাটওয়ারি

ফরিদ আহমেদ পাটওয়ারি

আমি প্রবাসী বাংলাদেশী হিসেবে পর্তুগালে বসবাস করছি। এখানে জীবন-জীবিকার পাশাপাশি পর্তুগিজ এবং বাংলাদেশ কমিউনিটিতে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত রয়েছি। পর্তুগালের পথচলা ২০১৫ সালে তবে এর পূর্বে বাংলাদেশে একটি স্বনামধন্য রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাহী হিসেবে কর্মরত ছিলাম। শিক্ষাজীবন ঢাকা কলেজ থেকে ২০০৪ সালে স্নাতক ডিগ্রি এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং বলাখাল জে এন হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক । বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স তাছাড়া শিক্ষাজীবন এবং কর্মজীবনে হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, ব্যবস্থাপনা, আইটি সম্পর্কিত বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে যুক্ত ছিলাম। ২২ বছরের কর্মজীবন কেটেছে মিডিয়া, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, আইটি,  সেলস এন্ড মার্কেটিং এবং মার্চেন্ডাইজার হিসেবে। ফটোগ্রাফি, লেখালেখি, ভ্রমণ এবং টেকনোলজির প্রতি আগ্রহ রয়েছে শখ ও বলা যায়। এরমধ্যে লেখালেখিটা শক্ত হাতে ধরেছি, সুন্দর একটা পরিবর্তন এর আশায়। জীবনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গঠনে মানুষের সহযোগিতায় কাজ করে যাওয়া।

Related Posts

Next Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

I agree to the Terms & Conditions and Privacy Policy.

ফেসবুকে ইউরোপ বাংলা