Thursday, ডিসেম্বর ৭, ২০২৩

ইউরোপে এসাইলামঃ ২০২০ সালে বাংলাদেশীদের ৯৭ ভাগ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিল করেছে ইউ

ডেস্ক রিপোর্টঃ সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে শুরু করে আজকের এই বর্তমান উন্নত পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে অভিবাসনের মাধ্যমে । যদি উদাহরণস্বরূপ শুধু একটি দেশের কথাই বলি যেমন আমেরিকা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া পায় এবং একটি আধুনিক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ইউরোপিয়ান মাইগ্রেশনের কারণে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে উপনিবেশ স্থাপনের জন্য সেই সতেরো শতকে পাড়ি জমান এবং পরবর্তীতে সেখানেই বসবাস শুরু করেন এবং খোদ স্থায়ী আদিবাসীরা একসময় ঐ অঞ্চল থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বর্তমানেও অভিবাসীরা উন্নত জীবনের খোঁজে বিভিন্ন উন্নত দেশগুলোতে পাড়ি জমানোর ধারা অব্যাহত রেখেছেন।

ইউরোপের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসীরা বৈধ/অবৈধ পথে পাড়ি জমানোর পর, ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উন্নত দেশগুলোকে নির্বাচন করেন বসবাস করার জন্য তবে ইউরোপের অর্থনৈতিক বিচারে  নিম্নআয়ের দেশগুলোতে মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া সহজ হলেও উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে খুবই কঠিন। তাই উন্নত দেশগুলোতে স্থায়ী হওয়ার জন্য তারা এসাইলাম বা আশ্রয় আবেদানের পথ বেছে নেন । তবে বেশিরভাগ আশ্রয় আবেদন উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে বাতিল হয়।

প্রতি বছর বাংলাদেশি নাগরিকরাও ইইউ এর উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান যেমন গত ২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে প্রায় ১১ হাজার ২ শত ৬৯ জন বাংলাদেশি অভিবাসী আশ্রয় আবেদন করেন। এরমধ্যে মাত্র ৩৭৪ জনের শরণার্থী হিসেবে আবেদন গ্রহণযোগ্য হয় এবং ৮৭ জনকে সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন এর আওতায় আবেদন গ্রহণ করেন। সর্বমোট ৯ হাজার ২ শত ৩৯ জন বাংলাদেশী আশ্রয় আবেদনকারীকে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় বর্তমানে প্রায় ১৩ হাজার ৩২ টি আবেদন এখনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৪ লক্ষ ৬১ হাজার ৩০০ জন  অভিবাসী আশ্রয় আবেদন করেন, যদিও তারা গত ২০১৯ সালের তুলনায় তা ৩১ শতাংশ কম। এদের বেশিরভাগই সিরিয়া, আফগানিস্তান, ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া,  ইরাক এবং পাকিস্তানের নাগরিক আমাদের সাবকন্টিনেন্টে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে ভারত এবং নেপালের অবস্থান।উক্ত সর্বমোট আবেদনের ৩২ শতাংশ আবেদন মঞ্জুর করা হয়। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তার মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

অন্যান্য সংবাদঃ
ইউরোপে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ রয়েছে যথেষ্ট, আগ্রহীরা জানেন না উপায় গুলো!
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেন বাইডেন
লেখক মুশতাকের মৃত্যুতে ইইউর ১৩ দূত,আমেরিকা ও বৃটেনের উদ্বেগ !

ফরিদ আহমেদ পাটওয়ারি

ফরিদ আহমেদ পাটওয়ারি

আমি প্রবাসী বাংলাদেশী হিসেবে পর্তুগালে বসবাস করছি। এখানে জীবন-জীবিকার পাশাপাশি পর্তুগিজ এবং বাংলাদেশ কমিউনিটিতে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত রয়েছি। পর্তুগালের পথচলা ২০১৫ সালে তবে এর পূর্বে বাংলাদেশে একটি স্বনামধন্য রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাহী হিসেবে কর্মরত ছিলাম। শিক্ষাজীবন ঢাকা কলেজ থেকে ২০০৪ সালে স্নাতক ডিগ্রি এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং বলাখাল জে এন হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক । বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স তাছাড়া শিক্ষাজীবন এবং কর্মজীবনে হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, ব্যবস্থাপনা, আইটি সম্পর্কিত বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে যুক্ত ছিলাম। ২২ বছরের কর্মজীবন কেটেছে মিডিয়া, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, আইটি,  সেলস এন্ড মার্কেটিং এবং মার্চেন্ডাইজার হিসেবে। ফটোগ্রাফি, লেখালেখি, ভ্রমণ এবং টেকনোলজির প্রতি আগ্রহ রয়েছে শখ ও বলা যায়। এরমধ্যে লেখালেখিটা শক্ত হাতে ধরেছি, সুন্দর একটা পরিবর্তন এর আশায়। জীবনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গঠনে মানুষের সহযোগিতায় কাজ করে যাওয়া।

Related Posts

Next Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

I agree to the Terms & Conditions and Privacy Policy.

ফেসবুকে ইউরোপ বাংলা